ঢাকা সোমবার, ০১ ডিসেম্বর, ২০২৫, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪৩২

বাড়িই যেন হাসপাতাল! অপচিকিৎসায় গর্ভে শিশুর মৃত্যু

ভোরের মালঞ্চ | অনলাইন ডেস্ক নভেম্বর ১৬, ২০২৫, ১১:৩৭ এএম বাড়িই যেন হাসপাতাল! অপচিকিৎসায় গর্ভে শিশুর মৃত্যু

লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে অপচিকিৎসায় গর্ভে শিশুর মৃত্যু এবং প্রসূতির অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার চর লরেন্স ইউনিয়ন কমিউনিটি ক্লিনিকে দায়িত্বরত এফডাব্লিউএ বিলকিস বেগম ক্লিনিকের বাইরে নিজ বাসাকে হাসপাতাল হিসেবে সাজিয়ে পরিচালনা করছেন ডিএনসি-সহ নানা অবৈধ কার্যক্রম।

 

জানা যায়, গত ১২ নভেম্বর সকালে চর কাদিরা ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আব্দুর রহমানের প্রসূতি মেয়ে সুলতানাকে চর লরেন্স ইউনিয়নের কমিউনিটি ক্লিনিকে কর্মরত এফডাব্লিউএ বিলকিস বেগমের কাছে চেকআপ করাতে নিলে তিনি তাদেরকে নিজের বাসায় যেতে বলেন। বাসায় গেলে আগের দিন করা আল্ট্রাসনোগ্রাফির রিপোর্ট দেখে সব কিছু ঠিক আছে বলে জানান বিলকিস। পরে তিনি বাচ্চা প্রসব করাতে উৎসাহিত করেন।

 

সুলতানার মা বারবার সতর্ক করলেও বিলকিস নিজ উদ্যোগে প্রসব করানোর চেষ্টা চালান। তখন জরায়ুর মুখ না খোলায় তিনি অতিরিক্ত ওষুধ ব্যবহার করে জরায়ুর মুখ খোলার চেষ্টা করেন। প্রায় দুই ঘণ্টা পর প্রসূতিকে একটি ইনজেকশন পুশ করলে সুলতানা তাৎক্ষণিক চিৎকার করতে করতে বমি করে অজ্ঞান হয়ে পড়েন।

 

দিনভর চেষ্টা চালানোর পর সন্ধ্যায় রোগীর অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখে বিলকিস তড়িঘড়ি করে তাকে তার বাসার ক্লিনিক থেকে বের করে দেন। পরে প্রসূতিকে লক্ষ্মীপুর নোভা হাসপাতালে ভর্তি করালে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক গর্ভের বাচ্চাটিকে মৃত ঘোষণা করেন এবং প্রসূতির অবস্থা এখনও আশঙ্কাজনক বলে জানান। তাকে দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার পরামর্শ দেওয়া হয়।

 

প্রসূতির মা কহিনুর বলেন, “আমাদের ইচ্ছার বাইরে বিলকিস ডাক্তার কি একটা ইনজেকশন দিয়েছে। সাথে সাথে আমার মেয়ে অজ্ঞান হয়ে পড়ে। পরে আমাদেরকে তার বাড়ি থেকে দ্রুত বের করে দিলে আমরা লক্ষ্মীপুরে আসি। ডাক্তার জানান, গর্ভের বাচ্চা মারা গেছে এবং আমার মেয়ের অবস্থা এখনো আশঙ্কাজনক।”

 

নিজ বাসায় অবৈধভাবে ক্লিনিক পরিচালনার বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত বিলকিস বেগম বলেন, “আমার সার্টিফিকেট আছে। তারা নিজ ইচ্ছায় আমার বাসায় এসেছে এবং ভর্তি হয়েছে।” ভর্তির অনুমতি আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি কোনো জবাব দিতে পারেননি। তার দাবি—তার চিকিৎসায় কোনো ভুল হয়নি।

 

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সব্যসাচী নাথ বলেন, “এ ঘটনা আমার জানা নেই। আমি ছুটি থেকে এসে বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেব।”

Side banner