ঢাকা শনিবার, ০৭ নভেম্বর, ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩
‘হাবিবি’ নামে পলিটিক্যাল অ্যাকশন

কমিটি গঠন করলেন সিনেটর আব্দুল এল-সাঈদ

ভোরের মালঞ্চ | অনলাইন ডেস্ক নভেম্বর ৭, ২০২৬, ০৫:২০ পিএম কমিটি গঠন করলেন সিনেটর আব্দুল এল-সাঈদ

যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম সিনেটর হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই ‘হাবিবি পিএসি’ নামে একটি পলিটিক্যাল অ্যাকশন কমিটি (পিএসি) গঠন করেছেন মিশিগানের নবনির্বাচিত সিনেটর আব্দুল এল-সাঈদ।

 

পলিটিক্যাল অ্যাকশন কমিটি বা পিএসি হলো এমন সংগঠন, যারা বিভিন্ন পদে নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রার্থীদের সমর্থন বা বিরোধিতার জন্য অর্থ সংগ্রহ ও ব্যয় করে। 

 

বৃহস্পতিবারে (৫ নভেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ইলেকশন কমিশনে (এফইসি) জমা দেওয়া নথিতে দেখা গেছে, আব্দুল এল-সাঈদের পৃষ্ঠপোষকতায় ‘হাবিবি পিএসি’ একটি লিডারশিপ পিএসি হিসেবে নিবন্ধিত হয়েছে। এ ধরনের কমিটি কোনো রাজনীতিকের নিজস্ব নির্বাচনী প্রচার তহবিল থেকে আলাদা।

 

আরবি শব্দ ‘হাবিবি’র অর্থ ‘আমার প্রিয়’ বা ‘আমার ভালোবাসার মানুষ’। নির্বাচনী প্রচারের সময় শব্দটি প্রায়ই ব্যবহার করেছেন এল-সাঈদ। এমনকি, ডেট্রয়েটে বিজয় ভাষণ দেওয়ার সময় সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জে. ডি. ভ্যান্সকে উদ্দেশ করেও শব্দটি ব্যবহার করেন তিনি। এল-সাঈদ বলেন, ‘জেডি, হাবিবি, কী দারুণ এক পরিহাস; সংবিধান অনুযায়ী, জানুয়ারিতে, তোমাকেই আমাকে শপথ পড়াতে হবে।’

 

মঙ্গলবারের (৩ নভেম্বর), নির্বাচনের পর, নতুন নির্বাচিত ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে আব্দুল এল-সাঈদ একমাত্র নন, যারা লিডারশিপ পিএসি নিবন্ধন করেছেন। এফইসির নথি অনুযায়ী, তাদের মধ্যে রয়েছেন অ্যারিজোনার নবনির্বাচিত কংগ্রেসম্যান আমিশ শাহ, যিনি ‘পিএসি স্ট্রিট বয়’ নামে কমিটি গঠন করেছেন; আইওয়ার নবনির্বাচিত সিনেটর জশ তুরেকের ‘হুইলপ্যাক’ এবং নর্থ ক্যারোলাইনার নবনির্বাচিত সিনেটর রয় কুপারের ‘ওয়ান এনসি পিএসি’।

 

ওপেনসিক্রেটসের তথ্য অনুযায়ী, উচ্চাকাঙ্ক্ষী রাজনীতিকেরা সহকর্মীদের মধ্যে নিজেদের প্রভাব বাড়াতে এবং দলীয় নেতৃত্বের পদ কিংবা বিভিন্ন কমিটির চেয়ারম্যান হওয়ার সম্ভাবনা জোরদার করতে লিডারশিপ পিএসি ব্যবহার করেন। এ ধরনের কমিটির মাধ্যমে তারা অন্য আইনপ্রণেতা, নিজ দল এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক কমিটিকে আর্থিক সহায়তা দিয়ে থাকেন।

 

২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারণায় লিডারশিপ পিএসিগুলো কেন্দ্রীয় পর্যায়ের নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রার্থীদের মোট ৭৯ কোটি ৩০ লাখ ডলার অনুদান দেয়। এর বেশির ভাগই যায় রিপাবলিকান প্রার্থীদের কাছে। তবে এককভাবে সবচেয়ে বেশি অনুদান দিয়েছিল একটি ডেমোক্র্যাটিক লিডারশিপ পিএসি।

 

 

 

মিশিগানের এই নবনির্বাচিত সিনেটর, নির্বাচনে, রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সকে পরাজিত করেন। তবে প্রচারের সময় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ভাইস প্রেসিডেন্ট জে. ডি. ভ্যান্স এবং সিনেটর টেড ক্রুজ তার আনুগত্য নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাকে ‘জিহাদি’ বলার পাশাপাশি কোনো প্রমাণ ছাড়াই মুসলিম ব্রাদারহুড আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা করেন তারা।

 

নির্বাচনের কয়েক দিন আগে, মিশিগানের ওয়াইয়ানডট শহরে এক নির্বাচনী সমাবেশে আলজাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আব্দুল এল-সাঈদ বলেন, করদাতাদের অর্থ বিদেশি সরকারগুলোর পেছনে ব্যয় না করে দেশের মানুষের জীবন রক্ষায় ব্যবহার করা উচিত। বিশেষকরে, যেসব সরকার গণহত্যা বা বর্ণবৈষম্যে জড়িত, তাদের অর্থায়নের বিরোধিতা করেন তিনি। একই সঙ্গে তার বক্তব্য ছিল, শুধু ট্রাম্পকে পরাজিত করাই যথেষ্ট নয়; যে ব্যবস্থা ট্রাম্পের মতো নেতার উত্থান ঘটিয়েছে, সেটিও বদলে ফেলতে হবে।

 

 

রাজনীতি থেকে অর্থের প্রভাব কমানো ছিল এল-সাঈদের নির্বাচনী অঙ্গীকারগুলোর অন্যতম। বিজয় ভাষণে তিনি বলেন, এই ফলাফল প্রমাণ করেছে, অর্থের শক্তি আর সাধারণ মানুষের সম্মিলিত শক্তির লড়াইয়ে সাধারণ মানুষও জয়ী হতে পারে।

 

রেকর্ড পরিমাণ ব্যয়ের মধ্যে অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে জয় পেয়েছেন আব্দুল এল-সাঈদ। ওপেনসিক্রেটসের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ফেডারেল ইলেকশন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে মোট ব্যয়ের পরিমাণ ১ হাজার ১৯০ কোটি ডলারে পৌঁছাতে পারে। ২০২২ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে এই ব্যয়ের পরিমাণ ছিল ৮৯০ কোটি ডলার।

 

সুপার পিএসিগুলোর নেতৃত্বে নির্বাচনের বাইরে থেকে করা ব্যয়ও এবার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এ খাতে ব্যয় ৩৯০ কোটি ডলারে পৌঁছাতে পারে, যা ২০২২ সালের তুলনায় ৮৫ শতাংশ বেশি। এছাড়া যেসব দাতা নিজেদের পরিচয় গোপন রেখে অর্থায়ন করেন, সেই তথাকথিত ‘ডার্ক মানি’র পরিমাণ ইতোমধ্যে অন্তত ১৪৭ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। এর মধ্য দিয়ে ২০২৪ সালের ১৩৫ কোটি ডলারের রেকর্ডও ছাড়িয়ে গেছে। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ওই নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনও অন্তর্ভুক্ত ছিল।

 

ওপেনসিক্রেটসের বিশ্লেষণে আরও দেখা গেছে, নির্বাচনের বাইরে থেকে ব্যয়ের ক্ষেত্রে রক্ষণশীল গোষ্ঠীগুলো উদারপন্থী গোষ্ঠীগুলোর তুলনায় প্রায় ৩৬ কোটি ডলার বেশি ব্যয় করেছে। অন্যদিকে, ডেমোক্র্যাটিক প্রার্থীরা রিপাবলিকান প্রার্থীদের তুলনায় প্রায় ৮০ কোটি ডলার বেশি ব্যয় করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

Side banner