কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাহিদা বেগমের একমাত্র সন্তান ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডে সিসিটিভি ফুটেজের ভিত্তিতে সন্দেহভাজন হিসেবে তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। এরই মধ্যে আটক তুহিনের বাসা থেকে অপ্রতিমের কাছে থাকা আইফোন উদ্ধার করা হয়েছে।
উদ্ধার হওয়া আইফোনটি তুহিনের কাছে থাকার বিষয়টি স্বীকার করেছেন তার মা। এ সময় তিনি জানান, অপ্রতিমের পরিবারের মতো তারাও সন্তানের বিষয়টি নিয়ে কষ্টে আছেন এবং এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চান।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) অভিযুক্ত তুহিনের বাসা গেলে যমুনা টেলিভিশনকে তার মা এ কথা বলেন।
তুহিনের মা বলেন, ‘আমিও চাই। আমার সন্তান নাই, আমারও কষ্ট লাগে, ওনারও কষ্ট লাগে। কিন্তু এতোটুকু বলতাম পাইরাম, ওনার সন্তান তো চইলা গেছে, সন্তান তো আইতো না। সুষ্ঠু বিচার হোক তার, প্রমিজ চাই। সবাই সবাই সন্তানের লাইগা চাইবো। আমি কী কমু, আমি একজন মা, আমার কী কওনের আছে?’
তুহিনের পড়াশোনার ব্যাপারে তার মা বলেন, ‘একবার স্কুলের মধ্যে ঝগড়া হইছিল। এরপরে আর পড়াশোনা করে নাই। কয়, “আমি আর পরীক্ষা দিতাম না, আমি আমার আব্বুর ব্যবসা দেখবাম।”’
আইফোন উদ্ধার প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ‘এইডা তো আমার সামনে থেইকাই উদ্ধার হইছে। যেহেতু ছেলের ঘর থেইকা পাইছে, তো এটা তো আমার ছেলেই আনছে। অওন যদি আরও দুইজনের সঙ্গে আছিল, এটার সঙ্গে জড়িত থাকে, তাও তো উদ্ধার করছে আমার ছেলের কাছ থেইকা। অওন তিনজনই একসঙ্গে আছিলো। তখন ওগো কাছে তো আছিলো না।’
তুহিনের মা বলেন, ‘অওন তো বেশি সন্দেহ করবো আমার ছেলেরেই। আমি তো সত্য-মিথ্যা জানি না।’
প্রসঙ্গত, রোববার সকাল ১০টায় ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমের মায়ের কর্মস্থল কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত হয় প্রথম নামাজে জানাজা।
উল্লেখ্য, অপ্রতিম কুমিল্লা বর্ডার গার্ড স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে মায়ের আইফোন নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে শালবন বিহারে ছবি তুলতে যাওয়ার কথা বলে বাসা থেকে বের হয় সে। সন্ধ্যার পরও বাসায় না ফেরায়, তার মা কুমিল্লার সদর দক্ষিণ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
পরে, শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১টার দিকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন ম্যাজিক প্যারাডাইস পার্কের পেছনের একটি টিলায় অপ্রতিমের মরদেহ পাওয়া যায়।

































-20260913062356.jpg)






আপনার মতামত লিখুন :