লক্ষ্মীপুরে আইনজীবীদের নিয়ে দেওয়া বক্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন লক্ষ্মীপুর-১ (রামগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য শাহাদাত হোসেন সেলিম। তাঁর দুঃখ প্রকাশের পর আইনজীবীদের আহ্বান করা মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা স্থগিত করা হয়েছে।
রোববার (৪ অক্টোবর) দুপুরে লক্ষ্মীপুর জেলা আইনজীবী সমিতির সামনে সাধারণ আইনজীবীদের ব্যানারে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা হওয়ার কথা ছিল।
এর আগে গত বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রামগঞ্জ উপজেলার কচুয়া আহমদিয়া ফাজিল মাদ্রাসার বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আইনজীবীদের নিয়ে মন্তব্য করেন এমপি শাহাদাত হোসেন সেলিম। তাঁর বক্তব্যকে ‘আপত্তিকর’ ও ‘অবমাননাকর’ দাবি করে জেলা জজ আদালতের আইনজীবী ওমর ফারুক তুষার তাঁকে লিগ্যাল নোটিশ দেন। নোটিশ পাওয়ার সাত দিনের মধ্যে বক্তব্য প্রত্যাহার করে আইনজীবীদের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানানো হয়।
এর পরিপ্রেক্ষিতে এমপি শাহাদাত হোসেন সেলিম বলেন, “আমি ঢালাওভাবে আইনজীবীদের বিরুদ্ধে বক্তব্য দেইনি। কিছু আইনজীবী মাদক ব্যবসায়ীদের পক্ষে জামিন করাচ্ছেন। তাদের উদ্দেশে বলেছিলাম, তারা যেন মাদকসেবীদের পক্ষে অন্তত তিনবার জামিন না চান। এটাই আমার আহ্বান ছিল। আমার বক্তব্য প্রত্যাহার করে আইনজীবীদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করছি।”
এ বিষয়ে লক্ষ্মীপুর জেলা জজ আদালতের এপিপি অ্যাডভোকেট আবদুল আহাদ শাকিল বলেন, “আমরা কারও ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক বিরোধের কারণে মানববন্ধনের ডাক দিইনি। সংসদ সদস্যের বক্তব্যে আইনজীবী সমাজ সম্পর্কে যে মন্তব্য করা হয়েছিল, তার প্রতিবাদ জানাতেই শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশের আহ্বান করা হয়েছিল।”
তিনি বলেন, “পরবর্তীতে সংসদ সদস্য তাঁর বক্তব্যের কারণে আইনজীবীদের ক্ষুব্ধ হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে দুঃখ প্রকাশ করেছেন এবং ভবিষ্যতে আরও সতর্ক থাকার কথা বলেছেন। আমরা বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবে দেখছি।”
অ্যাডভোকেট আবদুল আহাদ শাকিল আরও বলেন, “আইনজীবীরা কোনো অপরাধী বা মাদক কারবারির পক্ষে নন; আইনজীবীরা আইনের পক্ষে, ন্যায়বিচারের পক্ষে এবং সংবিধানসম্মত অধিকার রক্ষার পক্ষে। আদা আসামির পক্ষে আইনজীবী দাঁড়ানো মানেই সেই অপরাধকে সমর্থন করা নয়। এটি ন্যায়বিচার ব্যবস্থার মৌলিক অংশ।”
তিনি বলেন, “একজন জনপ্রতিনিধির বক্তব্য সমাজে ব্যাপক প্রভাব ফেলে। তাই কোনো বক্তব্যে যেন একটি সম্পূর্ণ পেশাজীবী সমাজের মর্যাদা ও ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন না হয়, সেটিই আমাদের প্রত্যাশা।”
আইনজীবীদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা কাউকে হেয় করতে চান না। আইনজীবীদের পেশাগত স্বাধীনতা ও মর্যাদা সমুন্নত রাখাই তাদের মূল প্রত্যাশা। ভবিষ্যতে কোনো আইনজীবী বা আইনজীবী সমাজকে এমনভাবে উপস্থাপন না করার আহ্বান জানানো হয়েছে, যাতে তাদের পেশাগত সততা ও সামাজিক মর্যাদা প্রশ্নবিদ্ধ হয়।
তাদের ভাষ্য, প্রতিবাদের উদ্দেশ্য ছিল বিষয়টির একটি ইতিবাচক ও সম্মানজনক সমাপ্তি। প্রতিবাদ কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে নয়; বরং অবমাননাকর বক্তব্যের সংস্কৃতির বিরুদ্ধে এবং আইন ও ন্যায়বিচারের মর্যাদা রক্ষার পক্ষে।








































আপনার মতামত লিখুন :