গানের টানে তরুণ বয়সেই ঘর ছেড়েছিলেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই তরুণ হয়ে উঠেছেন দেশের রক মিউজিকের আইকন। তার কণ্ঠ ও গিটার পরিবেশনা দেশের সীমানা ছাড়িয়ে ছড়িয়ে গেছে বহু দূর। বয়স বাড়লেও মঞ্চে কমেনি দাপট। আজও গানের মাঝেই যিনি খুঁজে ফেরেন জীবনের পরমানন্দ।
আজ ২ অক্টোবর, মাহফুজ আনাম জেমসের জন্মদিন। 'নগরবাউল' ও তার গান নিয়ে স্মৃতিচারণ করেছেন মঞ্জুরুল ইকরাম।
চিরকালীন মুখচোরা বাঙালির অকপটে কষ্ট পাবার স্বীকারোক্তির প্রকাশ এই পাগলা হাওয়া। শততম দুঃখবার্ষিকী উদযাপনেরও বৈধতা আছে জেনে ধাক্কা খেলো ঔদ্ধত্যের সীমারেখা।
কেবল অনুভূতির স্রোতের মাঝে নিজেকে এলায়ে বৃহৎ জলাশয় পাড়ি দেয়া, দূর পাহাড়ের পাদদেশে বিশাল কোনো বোল্ডারের উপর বসে বাকিদের বলা– 'তবে বন্ধু নৌকা ভেড়াও, মুছিয়ে দেব দুঃখ সবার।' কীভাবে? হাওয়া উড়ে এসে উত্তর দেয়, শোনাবো গান আজ সারারাত।
মিউজিকের পাশাপাশি পোস্টার কালচারের মাঝে আরেক কাল্ট হাজিরা দেয় আমার শৈশবে, সহজে বোধগম্য হয় নাই তা। এক অর্ধনগ্ন নারীর চিত্রকর্ম, এক ফুট বাই চার ফুট, তেলরঙ ফ্রেমে বাঁধাই করা। ঘরের এক কোনায় কিঞ্চিৎ অন্ধকারে আব্রু ঢাকার চেষ্টারত সেই নারী। সেটা ছিল না কোনো সাধারণ চিত্রকর্ম। দুটি শব্দে মহিমান্বিত হয়েছিল; বাম কোনায় লেখা ছিল ‘প্রিয় আকাশী’।
মঞ্চে গান গাইছেন জেমস
অনিন্দ্য কোলাহল থমকে গিয়ে বেড়ে চলা মৃত আশার বিরুদ্ধে আনকোরা এক নতুন সমাজ গড়ার স্বপ্নে 'ধর্মের ব্যারিকেড ভেঙে ফেলে স্বাধীনভাবে ভাবতে শেখো'র মতো প্রতিজ্ঞার সাথে সেই অনভ্যস্ত কানের মিলনমেলাই ছিল এক ইতিহাস।
ইতিহাসের ইতি ঘটতেছে। এখন সারারাত গান শোনা হয় না। শুনলেও ওতে দুঃখ ঘুচবে না, বার্ষিকী পালন হবে বড়জোর। ‘প্রিয় আকাশী’র পোস্টারও হারায়ে গেছে। ডিস্টেম্পারে মুছে গেছে আব্রু ঢাকার স্মৃতি। সেই সবের দুঃখ এই প্রিয় পাগলা হাওয়ার উপর না-ই দেই।
শুভ জন্মদিন নগরবাউল, আমার রাশভারী চিরহরিৎ রকস্টার।








































আপনার মতামত লিখুন :