ঢাকা শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

জাপানে স্থায়ী বসবাসে বিদেশিদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়ম

ভোরের মালঞ্চ | অনলাইন ডেস্ক সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬, ০৭:১৫ পিএম জাপানে স্থায়ী বসবাসে বিদেশিদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়ম

জাপানে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি পাওয়ার প্রক্রিয়া আরও কঠোর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী ১ অক্টোবর থেকে ধাপে ধাপে নতুন শর্তগুলো কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে। নতুন বিধান অনুযায়ী, স্থায়ী বসবাসের আবেদনকারীর পরিবারের বার্ষিক আয় জাপানের গড় আয়ের চেয়ে বেশি হতে হবে।

এর পাশাপাশি আবেদনকারীকে জাপানি ভাষায় দক্ষতার প্রমাণ দিতে হবে। থাকতে হবে ৩০ বছর ধরে পেনশন পাওয়ার সমপরিমাণ সঞ্চয়ও। জাপানের ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস এজেন্সির ভাষ্য, বিদেশিরা যেন নিজেদের খরচ নিজেরাই বহন করতে পারেন এবং সমাজের ওপর বোঝা হয়ে না দাঁড়ান, সেটি নিশ্চিত করাই নতুন নিয়মের অন্যতম লক্ষ্য। জানা গেছে, গত এপ্রিল থেকে জমা পড়া স্থায়ী বসবাসের আবেদনগুলোর ক্ষেত্রেও নতুন শর্ত কার্যকর হবে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জাপানে বিদেশি বাসিন্দার সংখ্যা দ্রুত বেড়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের শেষ দিকে দেশটিতে বিদেশি বাসিন্দার সংখ্যা রেকর্ড ৪১ লাখ ২০ হাজারে পৌঁছায়, যা মোট জনসংখ্যার প্রায় ৩ শতাংশ। তুলনায় যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সে বিদেশি বাসিন্দার হার ১০ থেকে ১৫ শতাংশ।

কিছু হিসাব বলছে, ২০৭০ সালের মধ্যে জাপানের মোট জনসংখ্যার প্রতি ১০০ জনের মধ্যে প্রায় ১০ জনই বিদেশে জন্ম নেওয়া হতে পারেন। একই সময়ে দেশটিতে জন্মহার কমে যাওয়ার প্রবণতাও অব্যাহত রয়েছে। ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের জানুয়ারির মধ্যে জাপানি নাগরিকের সংখ্যা ৯ লাখেরও বেশি কমেছে।

এমন পরিস্থিতিতে অভিবাসন ও বিদেশি শ্রমিকদের বিষয়ে জাপানের ভবিষ্যৎ নীতি নিয়ে আলোচনা নতুন করে জোরালো হয়েছে। মেইকাই বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির অধ্যাপক রিসা হাগিওয়ারার মতে, শ্রমিক সংকট মোকাবিলায় জাপানকে বিদেশি কর্মীদের ওপর নির্ভর করতে হলে দেশটিতে আসার পর তাদের জীবনযাপন নিয়েও ভাবতে হবে।

নতুন নিয়মের উদ্যোগ এমন এক সময়ে নেওয়া হচ্ছে, যখন জাপানের রাজনীতিতে ডানপন্থি প্রবণতা বাড়ছে। গত বছর লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির নেতৃত্বের প্রচারের সময় প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি বলেছিলেন, ভিন্ন সংস্কৃতি ও জীবনধারার মানুষকে জাপানে প্রবেশের সুযোগ দেওয়ার নীতি পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন।

অন্যদিকে, অভিবাসনবিরোধী কট্টর ডানপন্থি সানসেইতো পার্টির জনপ্রিয়তাও বেড়েছে। ‘জাপান ফার্স্ট’ স্লোগানকে সামনে রেখে দলটি সর্বশেষ নিম্নকক্ষের নির্বাচনে রেকর্ড ১৫টি আসন পায়। এর ফলে প্রধান বিরোধী দলগুলোর মধ্যে সানসেইতো তৃতীয় বৃহত্তম দলে পরিণত হয়েছে।

বিদেশিদের বিষয়ে জাপানের সাধারণ মানুষের দৃষ্টিভঙ্গিতেও পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলেছে। টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব সোশ্যাল সায়েন্সের সাম্প্রতিক এক জরিপে ৫৬ দশমিক ৩ শতাংশ জাপানি নাগরিক জানিয়েছেন, তারা আরও বেশি বিদেশি গ্রহণের বিরোধী। ২০২৪ সালে একই মত প্রকাশ করেছিলেন ৩৫ দশমিক ৬ শতাংশ।

Side banner