ঢাকা রবিবার, ০৮ নভেম্বর, ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩

শৈশবেই বিয়ের পিঁড়িতে লক্ষ্মীপুরের মেয়েরা

ভোরের মালঞ্চ | স্টাফ রিপোর্টার নভেম্বর ৮, ২০২৬, ০৫:১৫ পিএম শৈশবেই বিয়ের পিঁড়িতে লক্ষ্মীপুরের মেয়েরা

লক্ষ্মীপুরে বাল্যবিবাহের হার উদ্বেগজনক। জেলায় ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই বিয়ে হয়েছে প্রায় ৫১ শতাংশ নারীর। অর্থাৎ প্রতি ১০০ জন নারীর মধ্যে প্রায় ৫১ জনের বিয়ে হয়েছে ১৮ বছর বয়সের আগেই। এর মধ্যে ১৫ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই বিয়ের হার ৪ দশমিক ৫ শতাংশ। জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২১-এর তথ্য বিশ্লেষণে উঠে এসেছে এমন চিত্র।

 

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, লক্ষ্মীপুরে ১৮ বছরের নিচে বিয়ের হার ৫০ দশমিক ৯ শতাংশ। অন্যদিকে, ১৫ বছরের নিচে বিয়ের হার ৪ দশমিক ৫ শতাংশ। অর্থাৎ জেলার উল্লেখযোগ্যসংখ্যক মেয়ের বিয়ে হচ্ছে অপ্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায়।

 

বাল্যবিবাহের এই প্রবণতা শুধু একটি সামাজিক সমস্যা নয়, বরং মেয়েদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ জীবনের জন্য বড় প্রতিবন্ধকতা। অল্প বয়সে বিয়ের কারণে অনেক মেয়ের শিক্ষাজীবন থেমে যায়। পাশাপাশি অপ্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় মাতৃত্বের ঝুঁকি, শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যগত জটিলতা এবং আর্থিকভাবে নির্ভরশীল হয়ে পড়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়।

 

বাংলাদেশের বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন, ২০১৭ অনুযায়ী, মেয়েদের বিয়ের ন্যূনতম বয়স ১৮ বছর। এই বয়সের আগে বিয়ে আইনত বাল্যবিবাহ হিসেবে বিবেচিত। অথচ লক্ষ্মীপুরের পরিসংখ্যান বলছে, এখনো জেলার বিপুলসংখ্যক নারী ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন।

 

সংশ্লিষ্টদের মতে, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে শুধু আইন প্রণয়ন যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন আইনের কার্যকর প্রয়োগ, পরিবার ও সমাজের সচেতনতা বৃদ্ধি, মেয়েদের শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করা এবং ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে নজরদারি জোরদার করা।

 

বিশেষজ্ঞদের মতে, মেয়েদের শিক্ষা ও স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ বাড়ানো গেলে বাল্যবিবাহের প্রবণতা কমিয়ে আনা সম্ভব।

 

এখন প্রশ্ন হচ্ছে, লক্ষ্মীপুরে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে নেওয়া উদ্যোগগুলো কতটা কার্যকর? অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে পরিবার, সমাজ ও প্রশাসনের ভূমিকা কতটা দৃশ্যমান?

 

তথ্যসূত্র: জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২১।

Side banner