ঢাকা বুধবার, ০১ জুলাই, ২০২৬, ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩

বাংলাদেশে ফুটবল নিয়ে আবেগ দেখে বিস্মিত মার্কিন কূটনৈতিক

ভোরের মালঞ্চ | অনলাইন ডেস্ক জুন ৩০, ২০২৬, ০৫:১৪ পিএম বাংলাদেশে ফুটবল নিয়ে আবেগ দেখে বিস্মিত মার্কিন কূটনৈতিক

গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ যাকে বলা হয়, সেই বিশ্বকাপ ফুটবলের উন্মাদনা চলছে বিশ্বজুড়ে। আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে প্রিয় দলের প্রতি সমর্থনের পাশাপাশি, ফ্ল্যাগ ওড়ানো, বিজয় মিছিল— কোনো কিছুতেই কমতি নেই সমর্থকদের। এই মহাযজ্ঞে বাংলাদেশ সরাসরি না খেললেও ৪৮ দলের মধ্যে কয়েকটি দলের প্রতি সমর্থন রয়েছে এ দেশের মানুষের।

 

এমন সমর্থনকে বিস্ময়কর মনে করেন ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের কনস্যুল জেনারেল অ্যালবার্ট আর সেয়া। তার মতে, বাংলাদেশকে ক্রিকেটপ্রধান দেশ হিসেবে জানলেও ফুটবলের প্রতি এমন সমর্থন বৈচিত্রময়। 

 

অ্যালবার্ট আর সেয়া বলছিলেন, সত্যিই অবিশ্বাস্য। সবাই আমাকে বলেছিল বাংলাদেশ ক্রিকেটপ্রধান দেশ, ফুটবলের নয়। কিন্তু এখানে এসে দেখলাম, খেলাধুলার প্রতি বাংলাদেশের মানুষের ভালোবাসা কতটা বৈচিত্র্যময়। রাস্তায় বের হলেই বিভিন্ন দেশের জার্সি পরা সমর্থক, অসংখ্য পতাকা, সবকিছুই দারুণ লাগে। অবশ্য আমি চাইতাম, যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থক আরও বেশি দেখতে। জানি, বাংলাদেশে আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের সমর্থক বেশি। তবে এটি প্রমাণ করে, বাংলাদেশের মানুষের ফুটবল সম্পর্কে জ্ঞান ও আগ্রহ সত্যিই সমৃদ্ধ।

 

বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল ফাইনাল হলে, কী হবে তা যেন ভাবতেই পারছেন না এই মার্কিন কূটনীতিক।

 

তিনি বললেন, ''সাবেক ফুটবলার এরিক ক্যান্টোনা বলেছিলেন, ফুটবল হলো গুরুত্বহীন বিষয়গুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।'' বাংলাদেশে এসে আমি সেই কথার বাস্তব রূপ দেখেছি। অবশ্যই আমি চাই যুক্তরাষ্ট্র ফাইনালে খেলুক। তবে যদি ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা ফাইনাল খেলে, তাহলে বাংলাদেশের মানুষের যে উচ্ছ্বাস ও উদযাপন হবে, সেটিও দেখার মতো হবে। সুযোগ হলে আমি আপনাদের সঙ্গে ঢাকার রাস্তায় নেমে ফুটবল উদযাপন করতে চাই।

 

অ্যালবার্ট আর সেয়ার মতো আরেক কূটনীতিক স্কট হার্টম্যান জানান, বিশ্বকাপে না খেলেও এমন সমর্থন ও উন্মাদনা ফুটবলের সার্বজনীন ভাষাকে তুলে ধরে। তিনি ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্র দুতাবাসের ডিরেক্টর অব পাবলিক এঙ্গেজমেন্ট পদে কর্মরত।

 

তিনি বলছিলেন, বাংলাদেশে আমি দেখেছি, একই পরিবারের একাংশ ব্রাজিলের, আরেক অংশ আর্জেন্টিনার সমর্থক। বিষয়টি খুবই মজার। আরও ভালো লাগে এই কারণে যে, বাংলাদেশের দল বিশ্বকাপে না খেললেও মানুষ বিশ্বকাপকে নিজেদের উৎসবের মতো উদযাপন করে। এই আবেগ সত্যিই অসাধারণ।

 

এই দুই কূটনৈতিকের মতে, একদিন যুক্তরাষ্ট্রও বিশ্বকাপের ফাইনালে খেলবে। আর যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি সমর্থনও বাড়বে বাংলাদেশের মানুষের। 

Side banner