ঢাকা মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩
হিন্দু গোষ্ঠীর সফরে নারী কর্মীদের সরিয়ে দেওয়ার প্রতিবাদে

বন্ধ আইফেল টাওয়ার

ভোরের মালঞ্চ | অনলাইন ড্রেস্ক সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৬, ০১:১৭ পিএম বন্ধ আইফেল টাওয়ার

ভারতীয় একটি হিন্দু ধর্মীয় সংগঠনের সদস্যদের সফরের সময়, নারী কর্মীদের, কর্মস্থল থেকে সরে যেতে বলার অভিযোগকে কেন্দ্র করে ধর্মঘটে নেমেছেন আইফেল টাওয়ারের কর্মীরা। এর জেরে সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দর্শনার্থীদের জন্য বন্ধ রাখা হয় প্যারিসের বিশ্বখ্যাত এই স্থাপনা।

 

অনাকাঙ্ক্ষিত এই ঘটনার জন্য কর্মীদের কাছে 'ক্ষমা চেয়েছে' আইফেল টাওয়ার পরিচালনাকারী কর্তৃপক্ষ। একইসঙ্গে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা যাতে আর না ঘটে, সে বিষয়েও অবস্থান স্পষ্ট করেছে তারা।

 

ঘটনার শুরু শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর)। বোচাসনবাসী অক্ষর পুরুষোত্তম স্বামীনারায়ণ সংস্থা (বিএপিএস)-এর সঙ্গে যুক্ত প্রায় ১০০ সদস্যের একটি দল আইফেল টাওয়ার পরিদর্শনে যায়। 

 

কর্মীদের ইউনিয়নের প্রতিনিধি ডায়ান দাভোয়ানের অভিযোগ, দলটি সেখানে পৌঁছানোর পর নারী কর্মীদের নিজ নিজ কর্মস্থল থেকে সরে যেতে বলা হয়।

 

ব্রিটিশ সংবাদ সংস্থা রয়টার্সকে দাভোয়ান বলেন, সফররত দলের সদস্যদের জন্য সেখানে পুরুষ কর্মীদের রাখার উদ্দেশ্যেই নারী কর্মীদের সরে যেতে বলা হয়েছিল। এমন আচরণে কর্মীরা, বিশেষকরে, নারী কর্মীরা অপমানিত বোধ করেছেন বলেও জানান তিনি।

 

দাভোয়ানের ভাষ্য, সপ্তাহান্তে এ নিয়ে কর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ ও উত্তেজনা বাড়তে থাকে। পরে সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় সকালে, কর্মীরা বৈঠকে বসার সিদ্ধান্ত নেন। কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে কোনো নারী কর্মীর সঙ্গে যেন এমন আচরণ না করা হয়, সেটি নিশ্চিত করাই ছিল তাদের মূল লক্ষ্য।

 

ঘটনার ব্যাখ্যায় আইফেল টাওয়ার পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, ওই দলটি সফরের সময় নারী কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ সীমিত রাখার অনুরোধ জানিয়েছিল। ফরাসি সংবাদমাধ্যম এএফপির প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

 

তবে এমন শর্ত মেনে নেওয়া উচিত হয়নি বলে স্বীকার করেছে কর্তৃপক্ষ। তাদের মতে, এ ধরনের সিদ্ধান্ত প্রতিষ্ঠানের মূল্যবোধ এবং নারী-পুরুষের সমতার নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়, বরং সাংঘর্ষিক।

 

আইফেল টাওয়ার পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের প্রেসিডেন্ট অ্যারিয়েল ওয়েইলও ঘটনাটিকে স্পষ্টভাবে 'অগ্রহণযোগ্য' বলে মন্তব্য করেছেন। 

 

একইসঙ্গে, স্থাপনাটির প্রজাতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং নারী-পুরুষের সমতার প্রতি প্রতিষ্ঠানের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন তিনি।

 

এই ঘটনাটি নিয়ে ইতোমধ্যে তদন্তের ঘোষণা দিয়েছেন প্যারিসের মেয়র এমানুয়েল গ্রেগোয়ার। আইফেল টাওয়ারের কর্মীদের ক্ষোভের বিষয়টি তিনি অবগত এবং তাদের অসন্তোষকে যৌক্তিক বলে মনে করেন বলে জানিয়েছেন।

 

গ্রেগোয়ার বলেন, নারী-পুরুষের সমতার নীতি ফ্রান্সের ঐতিহাসিক স্থাপনা কিংবা প্যারিস শহরের কোনো জায়গাতেই সীমিত করা যাবে না। সবার জন্য এবং সর্বত্র এই সমতা নিশ্চিত করতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

 

এদিকে, ফ্রান্সের কট্টর ডানপন্থী নেত্রী মেরিন ল্য পেনও ঘটনায় প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। ফ্রান্সে নারীদের উপস্থিতি সীমিত করার কোনো প্রচেষ্টাই গ্রহণযোগ্য নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

 

ফ্রান্সে বিএপিএসের বড় মন্দির উদ্বোধন

 

ঘটনার একদিন পর, রোববার প্যারিসে নিজেদের প্রথম বড় মন্দির উদ্বোধন করে বিএপিএস। এর মধ্যেই আইফেল টাওয়ার সফরটি নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয়।

 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে বিএপিএসের প্যারিস শাখা জানিয়েছে, স্বাভাবিক সময়ে দর্শনার্থীদের অসুবিধা এড়াতে আইফেল টাওয়ার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করেই সফরটি আয়োজন করা হয়েছিল।

 

সফরের কারণে কারও কষ্ট বা অসুবিধা হয়ে থাকলে দুঃখ প্রকাশ করেছে সংগঠনটি। একইসঙ্গে পারস্পরিক সম্মান ও সেবাকে তারা সার্বজনীন মূল্যবোধ হিসেবে বিবেচনা করে বলেও জানিয়েছে।

 

বিএপিএস নিজেদের হিন্দু মূল্যবোধের ভিত্তিতে সমাজের উন্নয়নে কাজ করা একটি স্বেচ্ছাসেবী আধ্যাত্মিক সংগঠন হিসেবে পরিচয় দেয়। বিশ্বের বিভিন্ন বড় শহরে সংগঠনটির মন্দির রয়েছে; এর মধ্যে লন্ডন, লস অ্যাঞ্জেলেস ও সিডনিও রয়েছে।

Side banner

আর্ন্তজাতিক বিভাগের আরো খবর