ঢাকা সোমবার, ২২ জুন, ২০২৬, ৯ আষাঢ় ১৪৩৩
গোলকিপারের অবিশ্বাস্য পারফরম্যান্স

বিশ্বকাপে বিশ্বকে চমকে দিল কুরাসাও

ভোরের মালঞ্চ | অনলাইন ডেস্ক জুন ২১, ২০২৬, ১১:০৫ এএম বিশ্বকাপে বিশ্বকে চমকে দিল কুরাসাও

শেষ বাঁশি বাজতেই হাঁটু গেড়ে বেশ কিছুক্ষণ মাটিতে মাথা নুইয়ে রাখলেন ইলয় রুম। হয়তো বীরোচিত লড়াইয়ে ‘জয়ের’ তৃপ্তি, হয়তো অনুভব করতে চাইছিলেন মুহূর্তটি। দলের অন্যরা তখন পরস্পরের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে আনন্দস্তূপ গড়েছে। এক পর্যায়ে তাদেরও খেয়াল হলো রুমের কথা। তারা ছুটে গেলেন গোলকিপারের কাছে এবং তাকে ঘিরেই চলতে থাকল উৎসব। ধারাভাষ্যকার তখন চিৎকার করে বলেছেন, “একুয়েডরকে চমকে দিল কুরাসাও…।”

 

আদতে শুধু একুয়েডরকে নয়, কুরাসাও চমকে দিয়েছে গোটা বিশ্বকেই। নাহ, জিততে পারেনি তারা। গোলকিপার রুমের রেকর্ড গড়া পারফরম্যান্সে বিশ্বকাপের ‘ই’ গ্রুপের ম্যাচে তারা গোলশূন্য ড্র করেছে একুয়েডরের সঙ্গে। তবে তাদের কাছে এটি জয়ের চেয়েও বেশি কিছু। স্রেফ একটি পয়েন্ট নয়, এক টুকরো ইতিহাস!

 

মাত্র দেড় লাখ মানুষের দেশ, বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে কম জনসংখ্যার মানুষের দেশ, প্রথম পয়েন্টের স্বাদ পেল বিশ্ব আসরে। লাতিন আমেরিকা অঞ্চলের বিশ্বকাপ বাছাইয়ে যারা ছিল দুইয়ে (আর্জেন্টিনার পরই), যাদেরকে মনে করা হচ্ছিল এই বিশ্বকাপের ‘ডার্ক হর্স’, সেই একুয়েডরকে আটকে রাখল তারা। স্রেফ একটি ম্যাচ জয় নয়, শেষ বাঁশির পর বিশ্বজয়ের উল্লাসেই মেতে উঠল তারা।

 

আগের ম্যাচে বিশ্বকাপ অভিষেকে তাদের জালে ৭ গোল দিয়েছিল জার্মানি। সেখান থেকে এভাবে ঘুরে দাঁড়ানোতেও তাদের বাড়তি কৃতিত্ব দিতেই হবে। তাদের এই সাফল্যের নায়ক রুম। গোলবারে যেন দুর্ভেদ্য এক দুর্গ গড়েছিলেন ৩৭ বছর বয়সী গোলকিপার। সেভ করেছেন তিনি ১৫টি!

 

বিশ্বকাপ ইতিহাসে এক ম্যাচে সবচেয়ে বেশি সেভের রেকর্ড যুক্তরাষ্ট্রের টিম হাওয়ার্ডের। ২০১৪ আসরে বেলজিয়ামের বিপক্ষে সেভ করেছিলেন তিনি ১৬টি। তবে নির্ধারিত ৯০ মিনিটের রেকর্ড রুমের এই ১৫ সেভই।

 

 

ক্যানসাস সিটিতে ম্যাচের শুরু থেকেই বুক চিতিয়ে দুর্গ রক্ষার লড়াই শুরু হয় রুমের। ম্যাচের তৃতীয় মিনিটেই গোলের পরিষ্কার সুযোগ পায় একুয়েডর। এনার ভ্যালেন্সিয়ার কাছ থেকে নেওয়া একটি শট বাঁ দিকে ঝাঁপিয়ে চোখধাঁধানো দক্ষতায় রুখে দেন রুম।

 

সেই থেকে শুরু। ম্যাচজুড়েই একের পর এক সেভ করতে থাকেন যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় বিভাগের দল মায়ামি এফসির এই গোলকিপার। কাছ থেকে নেওয়া হেড আটকে দিয়েছেন তিনি অন্তত ৫টি।

 

ম্যাচের শতাংশ সময় বল ছিল একুয়েডরের কাছে। গোলে ২৬টি শট নিয়ে ১৫টি লক্ষ্যে রাখে তারা। তবে সংখ্যাগুলি স্রেফ তাদের আধিপত্যের নয়, কুরাসাও ও রুমের বীরত্বের গল্পও।

 

নেদারল্যান্ডস রাজ্যের সাংবিধানিক দেশ কুরাসাও। মূল কুরাসাও দ্বীপ ও জনবসতিহীন ‘লিটল কুরাসাও’ দ্বীপ নিয়ে দেশটি গঠিত। ভেনেজুয়েলার ঠিক উত্তরে অবস্থিত ক্যারিবিয়ান সাগরের ছোট্ট দ্বীপরাষ্ট্রটি ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ে আছে ৮১ নম্বরে। ভৌগোলিকভাবে দক্ষিণ আমেরিকার পাশে হলেও তারা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে কনক্যাকাফ অঞ্চলে। তারাই এখন বিশ্বকাপের বিস্ময়।

 

অনেক স্বপ্ন নিয়ে বিশ্বকাপে আসা একুয়েডর দুই ম্যাচেও গোলের দেখা পেল না। প্রথম ম্যাচে তারা ১-০ গোলে গেরে গিয়েছিল আইভরি কোস্টের কাছে।

 

এই গ্রুপ থেকে জার্মানি নিশ্চিত করেছে শীর্ষস্থান। অন্য কোনো দলই আনুষ্ঠানিকভাবে নকআউট পর্বে যাওয়ার লড়াই থেকে বাদ পড়েনি। তবে টিকে থাকতে হলে শেষ ম্যাচে তাদের প্রত্যেককেই জিততে হবে।

 

সেখানে একুয়েডরের চ্যালেঞ্জই বেশি কঠিন। তাদের শেষের প্রতিপক্ষ জার্মানি। কুরাসাও নতুন ইতিহাসের লক্ষ্যে লড়বে আইভরি কোস্টের বিপক্ষে।

Side banner