বরফে ঢাকা হিমালয়ের বুক চিরে বাংলাদেশের ইতিহাসে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা করেছিলেন লক্ষ্মীপুরের মেয়ে নিশাত মজুমদার। তবে তাঁর এই বিজয়গাথা কেবল সাফল্যের গল্প নয়; এর প্রতিটি অধ্যায়ে মিশে আছে মৃত্যুভয়, অসীম সাহস, কঠোর সাধনা আর অদম্য আত্মবিশ্বাসের এক রুদ্ধশ্বাস রূপকথা।
২০১২ সালের সেই ঐতিহাসিক এভারেস্ট অভিযানে পৃথিবীর অন্যতম বিপজ্জনক অঞ্চল কুম্বু হিমবাহে ভয়াবহ তুষারধসের মুখোমুখি হয়েছিলেন নিশাত। মুহূর্তের মধ্যে প্রচণ্ড বরফের ধাক্কায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তিনি ছিটকে পড়েন খাদ থেকে মাত্র কয়েক ইঞ্চি দূরে। আহত অবস্থায় বরফের নিচে চাপা পড়েও ভেঙে পড়েননি তাঁর মনোবল। সঙ্গীদের সহযোগিতা আর নিজের অদম্য সাহসে শেষ পর্যন্ত তিনি ফিরে আসেন মৃত্যুর দুয়ার থেকে।
কিন্তু হিমালয়ের চূড়ায় লাল-সবুজের পতাকা ওড়ানোর সেই ঐতিহাসিক মুহূর্ত একদিনে আসেনি। এর পেছনে ছিল দীর্ঘ ১০ বছরের কঠোর প্রস্তুতি, ত্যাগ, পরিশ্রম ও নিরলস সাধনা। ২০০৩ সাল থেকেই একের পর এক পর্বত অভিযানের মধ্য দিয়ে নিজেকে প্রস্তুত করেছেন নিশাত। প্রতিটি পাহাড় তাঁকে শিখিয়েছে নতুন কিছু, প্রতিটি কঠিন পথ তাঁকে করেছে আরও দৃঢ়, আর প্রতিটি বিপদ তাঁকে এগিয়ে দিয়েছে স্বপ্নের আরও কাছে।
এভারেস্ট জয়ের পথে তিনি বেছে নিয়েছিলেন নেপালের দুর্গম ও ঐতিহাসিক পথ—যে পথে প্রতিটি পদক্ষেপেই ছিল অনিশ্চয়তা ও বিপদের হাতছানি। তুলনামূলক সহজ পথের বদলে কঠিন পথকে বেছে নেওয়ার মধ্য দিয়েই যেন তিনি প্রমাণ করেছিলেন, বড় স্বপ্নের পথে সহজ রাস্তা নয়, প্রয়োজন অদম্য সাহস ও অবিচল আত্মবিশ্বাস।
অবশেষে সেই স্বপ্নের চূড়ান্ত মুহূর্ত আসে। পৃথিবীর সর্বোচ্চ পর্বত মাউন্ট এভারেস্টের চূড়ায় উড়তে থাকে বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকা। আর সেই পতাকার সঙ্গে উড়তে থাকে একজন বাংলাদেশি নারীর সাহস, সংগ্রাম ও স্বপ্নজয়ের গল্প।
নিশাত মজুমদার আজ শুধু লক্ষ্মীপুরের গর্ব নন—তিনি বাংলাদেশের নারীশক্তি, সাহস ও আত্মবিশ্বাসের এক উজ্জ্বল প্রতীক। প্রতিকূলতা যতই কঠিন হোক, স্বপ্ন যদি অটুট থাকে এবং সেই স্বপ্ন পূরণে থাকে নিরলস চেষ্টা, তবে অসম্ভবকেও জয় করা যায়—নিশাতের পথচলা তারই অনন্য প্রমাণ।
হিমালয়ের বরফঢাকা দুর্গম চূড়া পেরিয়ে নিশাত যে ইতিহাস লিখেছেন, তা শুধু একটি পর্বতজয়ের গল্প নয়; এটি একজন বাংলাদেশি নারীর অদম্য সাহসের গল্প, একটি জেলার গর্বের গল্প এবং পুরো বাংলাদেশের মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর গল্প।
তাঁর এই বিজয়গাথা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে তরুণদের স্বপ্ন দেখতে শেখাবে—আর সেই স্বপ্নের পথে ভয়কে জয় করে সামনে এগিয়ে যাওয়ার সাহস জোগাবে।




-20260815093723.jpg)











-20260814143056.jpg)





















-20260814143056.jpg)

আপনার মতামত লিখুন :