এইচআইভি সংক্রমণ আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যাওয়ায় জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে ফিজি। একইসঙ্গে পরীক্ষা, চিকিৎসা ও প্রতিরোধমূলক সেবার পরিধি বাড়াচ্ছে দেশটি। খবর বিবিসির।
ছোট এই প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপরাষ্ট্রটিতে বর্তমানে প্রতি ৬০ জন প্রাপ্তবয়স্কের মধ্যে প্রায় একজন এই রক্তবাহিত ভাইরাসে আক্রান্ত। পাঁচ বছর আগে এই হার ছিল প্রতি ১৬৭ জনে একজন। পাশাপাশি, এইচআইভি সংক্রান্ত জটিলতায় মারা যাওয়া শিশুর সংখ্যাও বাড়ছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও এনজিওগুলোর মতে, এই মহামারীর পেছনে মূলত মাদকের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার, নিরাপদ যৌন সম্পর্কের অভাব, সুই শেয়ার করা এবং 'ব্লু টুথিং' এর মতো বিপজ্জনক প্রবণতা দায়ী।
'ব্লু টুথিং' বা 'হটস্পটিং' বলতে বোঝায় মাদকাসক্ত ব্যক্তিরা যখন আগে থেকেই নেশাগ্রস্ত অন্য কোনো ব্যক্তির রক্ত সিরিঞ্জের মাধ্যমে নিজেদের শরীরে পুশ করেন। এই বিপজ্জনক অভ্যাসটি বিশ্বজুড়ে, বিশেষ করে আফ্রিকার কিছু অংশে এবং প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে এইচআইভি বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে।
এর বিস্তারের পেছনে দুটি প্রধান কারণ রয়েছে। প্রথমত, কম খরচে নেশা করা, এ ক্ষেত্রে কয়েকজন মিলে একসঙ্গে টাকা দিয়ে এক ডোজ কিনে তা ভাগ করে নেন। দ্বিতীয়ত, সিরিঞ্জের সংকট। ফিজিতে সিরিঞ্জ পাওয়া কঠিন হওয়ায় একটিমাত্র সিরিঞ্জ দিয়েই এই কাজ চালানো হয়।
জাতীয় সংকটের এই মোকাবিলায় ফিজি সরকার একটি সিরিঞ্জ ও সূচ (নিডেল) বিতরণ কর্মসূচি চালু করতে যাচ্ছে।
ফিজির স্বাস্থ্যমন্ত্রী আন্তোনিও লালাবালাভু জানান, ১০ লাখের কম জনসংখ্যার এই দেশটিতে কেবল ২০২৫ সালেই ২ হাজার ১৬ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রাদুর্ভাব পর্যায়ের পদক্ষেপ আর যথেষ্ট নয়।
তিনি বলেন, দেশটির কাছে পর্যাপ্ত পরিমাণে সিরিঞ্জ ও সূচ মজুত রয়েছে এবং এই কর্মসূচি চালুর জন্য পার্লামেন্টে আইনি সংশোধনী আনা হবে। এছাড়া তিনি জনসাধারণকে এগিয়ে এসে পরীক্ষা করানোর আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, কারো এইচআইভি স্ট্যাটাসের কারণে কেউ যেন লজ্জিত, হুমকিগ্রস্ত বা সমাজচ্যুত না হয়। সামাজিক কলঙ্ক বা ভীতিই মানুষকে সাহায্যকারী সেবাগুলো থেকে দূরে সরিয়ে রাখে।
জাতিসংঘ এইচআইভি ও এইডস বিষয়ক যৌথ কর্মসূচির (ইউএনএইডস) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ফিজিতে এইচআইভিতে আক্রান্ত ৯ হাজার ১০০ জনের মধ্যে মাত্র ৩৯ শতাংশ মানুষ তাদের রোগ সম্পর্কে জানত এবং মাত্র ২২ শতাংশ মানুষ অ্যান্টিরেট্রোভাইরাল থেরাপি বা চিকিৎসা নিচ্ছিল।
ইউএনএইডস-এর নির্বাহী পরিচালক উইনি বিয়ানিমা বলেন, এটি বিশ্ববাসীর জন্য একটি কঠোর সতর্কবার্তা যে এইডস এখনো শেষ হয়নি। এইচআইভি মহামারী দ্রুত পরিবর্তিত হতে পারে, তাই দেশগুলোর স্বাস্থ্য ও কমিউনিটি ব্যবস্থাকে জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত রাখতে হবে।
জাতীয় এইচআইভি মোকাবিলা টাস্কফোর্সের প্রধান জেসন মিচেল বিশ্বাস করেন, ফিজি এই মহামারী নিয়ন্ত্রণে আনতে কমপক্ষে পাঁচ বছর বা তার বেশি সময় লাগবে।
বিশ্বব্যাপী যেখানে এইচআইভিতে আক্রান্তদের ৭৮ শতাংশ মানুষ চিকিৎসার আওতায় রয়েছে, সেখানে ফিজির এই চিত্র সম্পূর্ণ বিপরীত।

































-20260913062356.jpg)





আপনার মতামত লিখুন :