নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) সমাজকর্ম বিভাগে শিক্ষক রয়েছেন হাতেগোনা কয়েকজন। শিক্ষক সংকটের কারণে একাডেমিক কার্যক্রম চালিয়ে নিতে বাড়তি চাপ সামলাতে হচ্ছে বিভাগটির শিক্ষকদের। এমন পরিস্থিতিতে শিক্ষকদের চাপ কিছুটা কমাতে নিয়মিত দুটি ব্যাচের ক্লাস নিচ্ছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী। প্রশাসনিক দায়িত্বের ব্যস্ততার মধ্যেও নির্দিষ্ট সময়ে শ্রেণিকক্ষে গিয়ে শিক্ষার্থীদের পাঠ দিচ্ছেন তিনি।
গত বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় সমাজকর্ম বিভাগের ১৭তম ব্যাচের ক্লাস নেন অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া ২১তম ব্যাচের নতুন শিক্ষার্থীদের ক্লাসও নিয়মিত নিচ্ছেন তিনি।
ক্লাস শেষ হওয়ার পরও অবশ্য শেষ হচ্ছে না অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানীর কাজ। শিক্ষার্থীদের বিদায় দিয়ে আবার ফিরতে হচ্ছে উপাচার্যের দপ্তরে। সেখানে অপেক্ষা করছে প্রশাসনিক নানা দায়িত্ব, সভা ও দাপ্তরিক কাজ। একদিকে শ্রেণিকক্ষ, অন্যদিকে প্রশাসন—দুই দায়িত্বের মধ্যেই সময় ভাগ করে নিতে হচ্ছে উপাচার্যকে।
জানা যায়, সমাজকর্ম বিভাগে বর্তমানে শিক্ষক রয়েছেন মাত্র চারজন। শিক্ষকস্বল্পতার কারণে নিয়মিত পাঠদান ও একাডেমিক কার্যক্রম চালিয়ে নিতে বাড়তি চাপ সামলাতে হচ্ছে তাদের। শিক্ষকদের সেই চাপ কিছুটা কমাতেই দুটি ব্যাচের ক্লাস নেয়ার দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী।
অবশ্য উপাচার্যের দায়িত্বের মধ্যেও শ্রেণিকক্ষে ফিরে যাওয়াকে শিক্ষকতার দায়িত্বের অংশ হিসেবেই দেখছেন অধ্যাপক গোলাম রব্বানী। তিনি বলেন, ‘মাত্র চারজন শিক্ষক দিয়ে পুরো বিভাগ চালানো শিক্ষকদের জন্য কষ্টকর হয়ে যাচ্ছে। তাই শিক্ষকদের কিছুটা রিলিফ দেয়ার জন্য আমি দুটি ব্যাচের ক্লাস নিচ্ছি। এতে তারা একাডেমিক ও গবেষণার কাজে আরও বেশি সময় দিতে পারবেন।’
সমাজকর্ম বিভাগে বর্তমানে কোনো সিনিয়র শিক্ষক না থাকায় নিজের অভিজ্ঞতা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ভাগ করে নেয়ার সুযোগও দেখছেন তিনি। উপাচার্য বলেন, ‘যেহেতু এই বিভাগে কোনো সিনিয়র শিক্ষক নেই, আমার কাছ থেকে সেই অর্থে একজন সিনিয়র শিক্ষকের অভিজ্ঞতা শিক্ষার্থীরা নিতে পারছেন। এতে আশা করি শিক্ষার্থীরা উপকৃত হবেন।’
শুধু শিক্ষক সংকটের কারণে ক্লাস নেয়া নয়, শিক্ষার্থীদের কাছাকাছি থাকার বিষয়টিকেও গুরুত্ব দিচ্ছেন উপাচার্য। তার মতে, শ্রেণিকক্ষে সরাসরি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বললে তাদের প্রত্যাশা ও প্রয়োজন সম্পর্কে কাছ থেকে জানা যায়।
অধ্যাপক গোলাম রব্বানী বলেন, ‘প্রশাসন প্রধান হিসেবে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ, তাদের অনুভূতি এবং প্রত্যাশা জানতে পারি। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে থেকে তাদের প্রয়োজন সম্পর্কেও জানতে পারি। এতে আমার সিদ্ধান্ত নেয়াটাও সহজ হবে।’
অন্যদিকে উপাচার্যকে নিয়মিত শিক্ষক হিসেবে পাওয়ার অভিজ্ঞতাকে ইতিবাচকভাবেই দেখছেন সমাজকর্ম বিভাগের শিক্ষার্থীরা। বিভাগের শিক্ষার্থী ইসরাত জাহান ওহী জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হয়েও তিনি নিয়মিত ক্লাস নেন। তার এই উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের কাছে শিক্ষার প্রতি নিষ্ঠা ও শিক্ষার্থীবান্ধব মনোভাবের প্রতিফলন।
ইসরাত বলেন, ‘ব্যস্ততার মধ্যেও উপাচার্য আমাদের ক্লাস নিচ্ছেন। তার জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা থেকে শেখার সুযোগ আমাদের জন্য অত্যন্ত মূল্যবান। তার মতো বিনয়ী ও গুণী শিক্ষকের কাছ থেকে শিখতে পেরে আমরা গর্বিত।’
একই বিভাগের শিক্ষার্থী প্রীতম কীর্ত্তনীয়া বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি উপাচার্যের নিয়মিত ক্লাস নেয়া তাদের কাছে অনুপ্রেরণার। উপাচার্য স্যারের উপস্থাপনার ধরন, আন্তরিকতা ও শিক্ষার্থীদের প্রতি মনোযোগ আমাদের মুগ্ধ করে।








































আপনার মতামত লিখুন :