যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার মুখে সামরিক অবস্থান বদলের ইঙ্গিত দিয়েছে ইরান। দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) রাজনৈতিক উপপ্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াদোল্লাহ জাভানি বলেছেন, প্রয়োজনে ডিফেন্সিভ থেকে অফেন্সিভ স্ট্র্যাটেজিতে যাবে ইরান।
রোববার (১৬ আগস্ট) ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবিকে দেওয়া বক্তব্যে জাভানি বলেন, ভবিষ্যতে তেহরানের সামরিক পদক্ষেপে ‘আক্রমণাত্মক’ বৈশিষ্ট্য দেখা যেতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে সতর্ক করে তিনি বলেন, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী তাদের কৌশলে ‘আমূল পরিবর্তন’ আনতে পারে।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মুজতাবা খামেনির জারি করা নতুন নিয়োগসংক্রান্ত আদেশের কথা উল্লেখ করে জাভানি বলেন, ইরানের সামরিক পদক্ষেপ নীতিগতভাবে প্রতিরক্ষামূলক থাকলেও এর ধরন এখন ‘আক্রমণাত্মক’ হতে পারে। এর লক্ষ্য হবে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে আগাম কৌশলগত চমক তৈরি করা এবং সর্বোচ্চ মাত্রার প্রতিরোধক্ষমতা নিশ্চিত করা।
জাভানির এই বক্তব্য এসেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে। ১৭ আগস্ট যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।
ইসলামাবাদের মধ্যস্থতায় হওয়া এই সমঝোতার মেয়াদ বাড়ানো হবে কি না, তা নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্যেও ভিন্নতা দেখা যাচ্ছে। রয়টার্স জানিয়েছে, তেহরান বলেছে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। অন্যদিকে পাকিস্তানি সূত্রের দাবি, ওয়াশিংটন ও তেহরান সমঝোতাটি বাড়ানোর বিষয়ে একমত হয়েছে।
পাকিস্তান সরকারের কয়েকটি সূত্র গত ১২ আগস্ট আনাদুলু এজেন্সিকে জানায়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি আরও বাড়াতে সম্মত হয়েছে। তবে কতদিনের জন্য তা বাড়ানো হবে, সে বিষয়ে তখনও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানানো হয়।
যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ নিয়ে এমন অনিশ্চয়তার মধ্যেই ইরানি জেনারেলের আক্রমণাত্মক সামরিক অবস্থানের ইঙ্গিত নতুন করে আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়াতে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।













-20260815093723.jpg)

























-20260814143056.jpg)
আপনার মতামত লিখুন :