মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে নিউইয়র্কে এক সৌহার্দ্যপূর্ণ বৈঠকের পরও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে নিজের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি। বলেছেন, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নেতানিয়াহু নিউইয়র্কে এলে তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা কার্যকর হওয়া উচিত বলে তিনি মনে করেন।
সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মামদানি বলেন, 'বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিষয়ে আমি তাকে যেভাবে মনে করি, সেভাবেই বর্ণনা করেছি। তিনি একজন যুদ্ধাপরাধী এবং ফিলিস্তিনি জনগণের বিরুদ্ধে ভয়াবহ গণহত্যার স্থপতি।'
তিনি জানান, নিউইয়র্কের মেয়রের সরকারি বাসভবন গ্রেসি ম্যানশনে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের সময়ও এ বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
বামপন্থি হিসেবে পরিচিত মামদানি, এর আগে, বেশ কয়েক মাস ধরে বলে আসছিলেন, নেতানিয়াহু নিউইয়র্কে এলে তাকে গ্রেফতার করা হবে। তবে নিউইয়র্ক শহরের মেয়র হিসেবে তাকে গ্রেফতারের আইনি ক্ষমতা নেই বলে বিষয়টি সম্প্রতি স্বীকার করেছেন তিনি। একই সঙ্গে নেতানিয়াহুর সফরের প্রতিবাদে আয়োজিত বিক্ষোভেও অংশ নেবেন না বলে জানিয়েছেন মামদানি।
গাজায় ফিলিস্তিনি সশস্ত্র সংগঠন হামাসের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের সময় সংঘটিত কথিত যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) জারি করা গ্রেফতারি পরোয়ানার প্রসঙ্গ তুলে মামদানি বলেন, এই পরোয়ানাকে সম্মান করা উচিত বলে তিনি মনে করেন।
তিনি বলেন, 'আমরা যে বিষয়টি নিয়ে আজ কথা বলেছি, তা হলো আমাদের রাজনীতির প্রতি আস্থা এবং জবাবদিহিতার প্রতি বিশ্বাস ফিরিয়ে আনা।'
মামদানি আরও বলেন, 'আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত যদি মনে করে, কেউ এসব আইন লঙ্ঘনের কারণে গ্রেফতারের যোগ্য, তাহলে কে আমরা যে বলব কেউ এর ঊর্ধ্বে থাকবে? আমার বিশ্বাস, সবাইকে এর জন্য জবাবদিহির আওতায় আনা উচিত।'
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বৃহস্পতিবার বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর।
এদিকে, ট্রাম্পের সঙ্গে মামদানির বৈঠকে দুই নেতার রাজনৈতিক মতপার্থক্য কিছুটা পাশ কাটিয়ে অভিবাসন নীতি ও কয়েক বিলিয়ন ডলারের আবাসন প্রকল্প নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বৈঠকের পর এক সংবাদ সম্মেলনে মামদানির প্রশংসা করেন ট্রাম্প।
ট্রাম্প বলেন, 'আশা করি, আপনি একজন দুর্দান্ত মেয়র হবেন। আমি বলতে পারব, আপনি একজন অসাধারণ মেয়র হতে যাচ্ছেন। আর আপনি ইতোমধ্যেই ভালোভাবে শুরু করেছেন।'
জবাবে মামদানি বলেন, 'শহরের প্রতি প্রেসিডেন্টের প্রতিশ্রুতিকে আমরা স্বাগত জানাই। আমাদের দুজনেরই ভিন্ন ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি ও বিশ্বাস রয়েছে। তবে আমি প্রেসিডেন্টের সঙ্গে এবং সত্যি বলতে, এই শহরের মানুষের জন্য স্বস্তি বা সহায়তা আনতে পারেন, এমন সবার সঙ্গেই আলোচনা চালিয়ে যাব।'































-20260915102135.jpeg)







আপনার মতামত লিখুন :