ঢাকা সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩
৩১ হাজার টাকার বিনিময়ে শিশুকে বিক্রি করেছিলেন

বাবা, দুই মাস পর উদ্ধার করল পুলিশ

ভোরের মালঞ্চ | অনলাইন ডেস্ক সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬, ০২:১৪ পিএম বাবা, দুই মাস পর উদ্ধার করল পুলিশ

গাইবান্ধায় নেশার টাকা জোগাড় করতে নিজের ১৩ মাস বয়সী মেয়েকে ৩১ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বাবা হামিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে। এ ঘটনার প্রায় দুই মাস পর অভিযান চালিয়ে শিশু ফাতেমা আক্তার জান্নাতকে উদ্ধার করেছে গাইবান্ধা জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা হামিদুল ইসলামসহ ৪ জনকে আটক করা হয়েছে।

 

আটক ব্যক্তিরা হলেন— সাদুল্লাপুর উপজেলার মন্দুয়ার গ্রামের হামিদুল ইসলাম (৩৩), গাইবান্ধা সদর উপজেলার কোমরপুর গ্রামের আব্দুল মজিদ সরকার (৩৬), ফুলছড়ি উপজেলার মদনেরপাড়া গ্রামের মোর্শেদা খাতুন (৪৫) ও একই গ্রামের জেসমিন আক্তার (২৮)।

 

 

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকালে গাইবান্ধা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয় এ তথ্য।

 

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মো. জসিম উদ্দিন জানায়, রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) গাইবান্ধা ও রংপুরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালায় ডিবি পুলিশ। সকালে সাদুল্লাপুরের সারবাজার এলাকা থেকে হামিদুল ইসলামকে আটক করা হয়। পরে রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার রায়পুর ছোট ওমরপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে বাসের হেলপার আব্দুল মজিদ সরকারকে আটক করা হয়। এরপর ফুলছড়ি উপজেলার মদনেরপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে মোর্শেদা খাতুনকে আটক করা হয়।

 

 

 

পুলিশের দাবি, মোর্শেদার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ফুলছড়ির মদনেরপাড়া ছলের মোড় এলাকায় সোলেমান চৌকিদারের বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকেই প্রায় দুই মাস ধরে নিখোঁজ থাকা শিশু ফাতেমা আক্তার জান্নাতকে উদ্ধার করা হয়।

 

 

পুলিশের প্রাথমিক তথ্যমতে, শিশুটিকে ৩১ হাজার টাকার বিনিময়ে বিক্রি করা হয়েছিল। তবে হামিদুল ওই টাকার পুরোটা পেয়েছিলেন কি না, তা নিয়ে ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে। শিশুটির পরিবারের দাবি, হামিদুল ৩১ হাজার টাকা পেয়েছিলেন।

 

শিশুটির মা রুমানা খাতুনের অভিযোগ, ঘটনার দুই দিন পর হামিদুল ফোন করে মেয়েকে ফেরত দেওয়ার বিনিময়ে ১০ হাজার টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে না পারলে শিশুটিকে বিক্রি করে দেওয়ার হুমকিও দেন তিনি। দরিদ্র পরিবারের পক্ষে ওই টাকা দেওয়া সম্ভব না হওয়ায় একপর্যায়ে হামিদুলের মোবাইল ফোন বন্ধ হয়ে যায়।

 

 

 

পুলিশ ও শিশুটির পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত ১৭ জুলাই জুস কিনে দেওয়ার কথা বলে ১১ মাস বয়সী মেয়ে ফাতেমাকে কোলে নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন হামিদুল। এরপর বাবা ও সন্তান আর বাড়িতে ফেরেননি। মেয়ের ফেরার অপেক্ষায় গাইবান্ধা পৌর শহরের দক্ষিণ ধানঘড়া এলাকায় দিন কাটছিল মা রুমানা আক্তারের।

 

পারিবারিক সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে হামিদুলের সঙ্গে রুমানার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই মাদকের টাকা জোগাড় করা নিয়ে স্ত্রীকে নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে হামিদুলের বিরুদ্ধে। সন্তান জন্মের পর পরিস্থিতির অবনতি হলে মেয়েকে নিয়ে বাবার বাড়িতে চলে যান রুমানা। পরিবারের অভিযোগ, মাদকের টাকা জোগাড় করতেই হামিদুল শিশুটিকে নিয়ে যান।

 

 

এদিকে শিশুটিকে উদ্ধারের জন্য মা রুমানা খাতুন আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১০০ ধারায় আবেদন করেন। আদালত আবেদনটি আমলে নিয়ে গত ২৭ আগস্ট হামিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। এরপর শিশুটিকে উদ্ধারে বিভিন্নভাবে চেষ্টা চালায় পুলিশ।

 

এ বিষয়ে গাইবান্ধা ডিবি পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মোত্তালিব সরকার বলেন, 'শিশুটিকে উদ্ধারের জন্য আদালতে আবেদন করা হয়েছিল। আদালতের নির্দেশনার পর নানা চেষ্টা চালিয়ে অবশেষে অভিযান পরিচালনা করে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়েছে। শিশুটিকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। ঘটনার সঙ্গে আর কারা জড়িত এবং কীভাবে শিশুটিকে বিক্রি করা হয়েছিল, তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'

 

 

 

পুলিশ সুপার জসিম উদ্দিন জানান, শিশুটিকে উদ্ধারের ঘটনায় চারজনকে আটক করা হয়েছে। শিশুটিকে কোথায়, কীভাবে এবং কার মাধ্যমে বিক্রি করা হয়েছিল এবং এর সঙ্গে আর কেউ জড়িত কি না—এসব বিষয় তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

 

 

Side banner