ঢাকা শনিবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৬, ১৪ ভাদ্র ১৪৩৩
৬৪ জেলায় মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের বিশেষ দায়িত্ব, কাজের গতি

বাড়ার আশা

ভোরের মালঞ্চ | অনলাইন ড্রেস্ক আগস্ট ২৯, ২০২৬, ০১:৪২ পিএম বাড়ার আশা

৬৪ জেলায় মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও হুইপদের বিশেষ দায়িত্ব দিয়েছে সরকার। দায়িত্বপ্রাপ্তরা সংশ্লিষ্ট জেলায় অপরাধ দমন এবং সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের সমন্বয় করবেন। এতে স্থানীয় প্রশাসনের কাজের গতি বাড়ার পাশাপাশি সরকারের সঙ্গে মাঠ প্রশাসনের দূরত্বও কমবে বলে মনে করছেন সরকারের দায়িত্বশীলরা। তবে সমন্বয়ের অভাব হলে প্রশাসনে জটিলতা তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। একই সঙ্গে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন তারা।

 

অপরাধ নিয়ন্ত্রণে সরকারের নানা উদ্যোগের পরও দেশে একের পর এক খুনের ঘটনা ঘটছে। মাদকের বিস্তার, চুরি-ছিনতাইসহ নানা অপরাধও উদ্বেগ বাড়াচ্ছে জনমনে। এমনকি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির এমন নাজুক অবস্থায় সমালোচনার মুখে পড়েছে সরকার। মাঠের আন্দোলনের পাশাপাশি সংসদেও এ নিয়ে সরব বিরোধীদল।

 

তবে শুধু আইনশৃঙ্খলা নয়, দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ এবং নতুন সরকারের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নেও রয়েছে নানা জটিলতা। এমন বাস্তবতায় জেলায় জেলায় রাজনৈতিক তদারকিতে জোর দিচ্ছে সরকার। এর অংশ হিসেবে দেশের ৬৪ জেলার অপরাধ দমন এবং সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড সমন্বয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ৩০ মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও হুইপকে।

 

এ বিষয়ে চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি বলেন, সরকারের কার্যক্রম কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছানো এবং সরকার যেসব বিষয়ে প্রত্যাশা করছে, সেগুলো বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

 

তিনি আরও বলেন, সরকার আমলাতন্ত্রের ওপর নির্ভর করে এবং আমলাতন্ত্রই সরকারের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করে। তবে সরকারের কার্যক্রম ঠিকভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে কি না কিংবা সরকার নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জিত হচ্ছে কি না, তা তদারকির জন্য কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেই। এই ঘাটতি পূরণেই এ কার্যক্রম নেওয়া হয়েছে।

 

আইনশৃঙ্খলা ও উন্নয়ন—দুটিই মাঠ প্রশাসনের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। সরকারের উচ্চ পর্যায়ের তদারকি থাকলে সমস্যা দ্রুত চিহ্নিত করা এবং প্রশাসনিক কাজে গতি বাড়ানোর পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা ও জনসেবায় নজরদারি জোরদার হবে বলে মনে করছেন দায়িত্বপ্রাপ্তরা।

 

তবে তদারকি ও সমন্বয়ের পরিবর্তে বিষয়টি যদি রাজনৈতিক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার পর্যায়ে চলে যায়, তাহলে এর ফল উল্টো হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

 

সমাজ ও অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল হক বলেন, দায়িত্বপ্রাপ্তরা সমন্বয় করে কাজ করতে না পারলে সেখান থেকে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব তৈরি হতে পারে। স্থানীয়ভাবে সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে যারা কাজ করছেন, তারা কার নির্দেশনা অনুসরণ করবেন বা কার হয়ে কাজ করবেন—এ নিয়ে অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব তৈরির যথেষ্ট আশঙ্কা রয়েছে।

 

তবে প্রশাসনের সঙ্গে কোনো ধরনের সংঘাতের সুযোগ নেই বলে মনে করেন চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি। তার মতে, প্রশাসন সরকারের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করে। দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও হুইপরা স্থানীয় প্রশাসনকে সহযোগিতা করবেন। ডিসি, ইউএনও ও এসপিসহ স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়াই তাদের দায়িত্ব।

 

তবে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও হুইপরা দায়িত্বপ্রাপ্ত জেলায় স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান এবং অন্যান্য সাংবিধানিক সংস্থার আইনগত ক্ষমতা খর্ব না করে শুধু সরকারের সার্বিক কার্যক্রম তদারকি ও সমন্বয় করবেন।

 

Side banner

জাতীয় বিভাগের আরো খবর