ঢাকা শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩
শরীয়তপুরের নড়িয়ায় জাল দলিল দিয়ে জমি বিক্রির

সময় নারীসহ আটক ৩

ভোরের মালঞ্চ | অনলাইন ডেস্ক সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬, ১১:১৬ এএম সময় নারীসহ আটক ৩

শরীয়তপুরের নড়িয়ায় জাল দলিলের মাধ্যমে জমি বিক্রি করতে এসে সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হাতে ধরা পড়েছে এক প্রতারক চক্রের ৩ সদস্য। পরে তাদের আটক করে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে। 

 

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নড়িয়া উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে এ ঘটনা ঘটে। আটক ব্যক্তিরা হলেন ভেদরগঞ্জ উপজেলার ইকরকান্দি গ্রামের ইয়াসমিন বেগম এবং তার দুই সহোদর ভাই ও সহযোগী ইকরাম সরদার ও সুরুজ সরদার।

 

পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, একটি জাল দলিলের মাধ্যমে ভূমি অফিস থেকে নামজারি (মিউটেশন) ও খাজনা খারিজ সম্পন্ন করে জমি বিক্রির জন্য সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে আসেন ইয়াসমিন বেগম ও তার দুই ভাই। নড়িয়ার বাসিন্দা রতন সরদার নামের এক ব্যক্তি জমিটি কেনার কথা চূড়ান্ত করে ব্যাংক ও অন্যান্য মাধ্যমে তাদের অগ্রিম ২২ লাখ ৬০ হাজার টাকা প্রদান করেছিলেন। টাকা হস্তান্তরের আগে স্থানীয় ভূমি অফিস ও সংশ্লিষ্ট দলিল লেখকদের মাধ্যমে যাচাই-বাছাই করা হলে তারা কাগজপত্র সঠিক বলে নিশ্চিত করেছিল।

 

তবে বুধবার বিকেলে চূড়ান্ত দলিল রেজিস্ট্রির সময় সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের কর্মচারীরা কাগজপত্র পুনর্নিরীক্ষা করতে গিয়ে দেখতে পান, যে মূল দলিলের ভিত্তিতে নামজারি করা হয়েছিল তা সম্পূর্ণ জাল। বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর সাব-রেজিস্ট্রার তাৎক্ষণিকভাবে ইয়াসমিন বেগম ও তার দুই ভাইকে আটক করে পুলিশে খবর দেন।

 

 

 

ভুক্তভোগী রতন সরদার বলেন, দলিল লেখক ও ভেন্ডাররা কাগজপত্র সঠিক জানানোর পরই আমি নিশ্চিত হয়ে ব্যাংকের মাধ্যমে টাকা দিয়েছিলাম। কিন্তু রেজিস্ট্রির সময় ধরা পড়ে পুরো নামজারিই ভুয়া দলিলের ওপর করা হয়েছে। আমি এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট অফিসের অসাধু চক্রসহ ইয়াসমিন ও তার সহযোগীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।

 

নড়িয়া উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার তাহমিদ তিশাদ নিলয় জানান, যাচাই-বাছাইয়ে জালিয়াতি ধরা পড়ার পর প্রতারক চক্রের সদস্যদের পুলিশে তুলে দেওয়া হয়েছে। সরকারি কাজে জালিয়াতি ও প্রতারণার সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার তাগিদ দেন তিনি।

 

নড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন জানান, ভুক্তভোগী রতন সরদার বাদী হয়ে মামলার আবেদন করেছেন এবং বিষয়টি আইনি প্রক্রিয়ায় রয়েছে। আটক তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং এই জালিয়াতির সাথে ভূমি অফিস বা দলিল লেখকদের কোনো সিন্ডিকেট জড়িত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখে পুরো চক্রকে আইনের আওতায় আনা হবে।

 

 

Side banner