ঢাকা সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

বাংলাদেশের আইনে বিশ্বাস করি না, এ ব্যাপারে আমি নাস্তিক: সালমান

ভোরের মালঞ্চ | অনলাইন ডেস্ক সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬, ০১:৪৮ পিএম বাংলাদেশের আইনে বিশ্বাস করি না, এ ব্যাপারে আমি নাস্তিক: সালমান

রাজধানীর ইসিবি চত্বরে কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় তিনি বলেছেন, বাংলাদেশের আইনে বিশ্বাস করি না। আমি আইনের ব্যাপারে অনেক নাস্তিক বাংলাদেশের। আমার পক্ষ থেকে কোনো পদক্ষেপ না, ফরমালিটির জন্য একটা মামলা করবো।

 

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাতে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

 

 

জানা গেছে, রাজধানীর ইসিবি চত্বরের পাশে দক্ষিণ মানিকদীর নিউগিনি প্রপার্টিজে সশস্ত্র একদল দুর্বৃত্তের তাণ্ডব, গুলিবর্ষণ ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। রাতের এ ঘটনায় হাউজিং সোসাইটির অফিস থেকে প্রায় এক কোটি টাকা লুটের অভিযোগ করেছে কর্তৃপক্ষ। ভাঙচুর করা হয়েছে কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওও। স্টুডিওতে থাকা কর্মীদের মারধর করে সেখানে ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয় বলে অভিযোগ করে এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সালমান মুক্তাদির।

 

 

সালমান মুক্তাদির বলেন, আমি চট্টগ্রাম থেকে এসেই খবরটি শুনছি। বাংলাদেশে যাই ঘটে রাজনৈতিকভাবেই ঘটে। এখানে আর কোনো পার্সোনাল গ্রাজ (ব্যক্তিগত আক্রোশ) কিছু নেই। প্রত্যেকটা বাচ্চা থেকে বড় পর্যন্ত, জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত বাংলাদেশে সবই রাজনীতি।

 

 

 

তিনি আরও বলেন, আমি যদি এখন ইমোশনালি ভেঙে পড়ি—আমার কর্মীরা, আমার মেম্বাররা, আমার যত পার্টনাররা সবাই ভেঙে পড়বে, এটা আমি চাই না।

 

 

ক্ষয়ক্ষতি প্রসঙ্গে সালমান মুক্তাদির বলেন, ক্ষয়ক্ষতি অনেক হয়েছে। শুধু ক্লায়েন্টদের কাজের কথাই যদি বলেন, তাদের অনেক জিনিসপত্র এখানে ছিল। বিভিন্ন ফুটেজ ও শুটও এখানে করা হয়। একটি শুট করতে কত খরচ হয়, সেটা আপনারা জানেন। সেখানে ৩০-৪০ জন ক্লায়েন্টের সবকিছু নিয়ে গেলে কতটা ক্ষতি হতে পারে, সেটা সহজেই বোঝা যায়।

 

তিনি আরও বলেন, তবে এখনই আমি ক্ষতির পরিমাণ বলতে পারছি না। কারণ আমার আইনজীবী এখানে নেই। আর্থিক বিষয় নিয়ে কতটা বলা যাবে, সেটাও আমি নিশ্চিত নই। আগামীকাল যদি বলতে পারি, তাহলে বিস্তারিত বলতে পারবো। এখন আসলে আমি জানি না, ক্ষতির পরিমাণ কত।

 

 

 

সালমান মুক্তাদির বলেন, আমি কন্টিনিউ করবো। আই উইল বি সালমান মুক্তাদির। আমাকে থামাতে পারবে না। কোনোভাবেই থামবো না, ক্রিয়েটিভিটি চালিয়ে যাবো। নতুন কোনো কনটেন্ট থাকলে করবো, ক্লায়েন্টদের সঙ্গে কাজ করবো। হয়তো আগের মতো সুন্দর ও গোছানোভাবে করতে পারবো না। কিন্তু আমি থেমে থাকবো না। আমার প্যাশন চালিয়ে যাবো। দেশ থেকে না হলেও দেশের বাইরে থেকে চালিয়ে যাবো।

 

 

তিনি আরও বলেন, এখন যা কিছু হচ্ছে, এটা শুধু বাংলাদেশের ব্যর্থতা নয়, এটা দেশের প্রত্যেক মানুষের ব্যর্থতা। প্রত্যেক রাজনৈতিক দলেরও ব্যর্থতা। এটা আমারও ব্যর্থতা। আমি যখন নিজের ব্যর্থতা স্বীকার করছি, তখন আমি মনে করি রাজনৈতিক দলের প্রত্যেক সদস্যও স্বীকার করতে পারেন যে তারা ব্যর্থ, তারা অযোগ্য।

 

কনটেন্ট ক্রিয়েটর বলেন, আমি যেমন একজন অযোগ্য নাগরিক। যদি নিজের এই ব্যর্থতা স্বীকার করার সাহস দেখাতে পারি, তাহলে বড় বড় চেয়ারে বসা ব্যক্তিরাও বলতে পারেন, হ্যাঁ, আমি একজন অযোগ্য নেতা, অযোগ্য শেয়ারহোল্ডার বা অযোগ্য অ্যাডমিন। তারাও এটা বলার সাহস দেখাতে পারেন। 

 

 

Side banner