যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টায় নতুন ঠিকানার উদ্দেশে চীন ছেড়েছে দুটি জায়ান্ট পান্ডা: পিং পিং ও ফু শুয়াং। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদারে ‘পান্ডা ডিপ্লোমেসি’ ব্যবহার করে আসছে বেইজিং। তারই ধারাবাহিকতায় এবার আটলান্টার চিড়িয়াখানায় যাচ্ছে এই জুটি।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) এক প্রতিবেদনে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন নিউজ এ তথ্য জানায়।
চীনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়া জানিয়েছে, রোববার স্থানীয় সময় ভোর ২টা ৫৫ মিনিটে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর চেংদু থেকে পান্ডা দু'টিকে নিয়ে বিমানটি যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে রওনা হয়।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বৈঠক শেষ হওয়ার একদিন পরই উপহার হিসেবে দুই পান্ডার এই যাত্রা শুরু হলো।
শি জিনপিংয়ের সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট্র সফরে দুই দেশের বাণিজ্যিক উত্তেজনা কমাতে বেশ কিছু বিষয়ে সমঝোতা হয়। একইসঙ্গে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগের জন্য একটি হটলাইন চালুর বিষয়েও সম্মত হন দুই নেতা।
চীনের সিচুয়ান প্রদেশের জায়ান্ট পান্ডা ব্রিডিং রিসার্চ বেস থেকে পান্ডা দুটিকে বিশেষভাবে প্রস্তুত করা দুটি বাক্সে করে বিমানবন্দরে নেওয়া হয়।
সিনহুয়ার প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, পান্ডাদের বিদায় জানাতে ভক্তরা বিমানবন্দরের পথে জড়ো হন। পরে দুটি বিশেষ বাক্স বিমান পর্যন্ত নিয়ে গিয়ে বিমানে তোলা হয়।
পান্ডা দু'টির চেংদু থেকে আটলান্টা পৌঁছাতে প্রায় ১৫ ঘণ্টা সময় লাগার কথা। যাত্রাপথে তাদের যত্ন নিতে চীনের কয়েকজন পশু চিকিৎসক ও প্রজনন বিশেষজ্ঞও সঙ্গে যাচ্ছেন। আটলান্টায় পৌঁছানোর পর কোয়ারেন্টিনে রাখা হবে পান্ডা দু'টিকে।
এ সময় চীনা বিশেষজ্ঞদের একটি দল আটলান্টার চিড়িয়াখানায় অবস্থান করবে বলে জানিয়েছে সিনহুয়া।
এদিকে, পান্ডা দু'টিকে স্বাগত জানাতে, গত এক বছর ধরে, প্রস্তুতি নিচ্ছে জু আটলান্টা। পান্ডাদের থাকার জায়গা বড় করার পাশাপাশি পর্যাপ্ত বাঁশের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তাদের দেখভালের জন্য প্রশিক্ষিত কর্মীও প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
চিড়িয়াখানাটির প্রাণীস্বাস্থ্য বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট স্যাম রিভেরা জানান, পান্ডাদের জন্য আগের তুলনায় আরও বড় আবাসস্থল তৈরি করা হয়েছে। তাদের খাবারের জন্য পর্যাপ্ত বাঁশের সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে এবং জায়ান্ট পান্ডা পরিচর্যায় অভিজ্ঞ কর্মীদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
চীনের চেংদু গবেষণা কেন্দ্র ও জু আটলান্টার কর্মকর্তারা পান্ডাদের নতুন আবাসস্থল নিয়ে গত এক বছরে অনলাইন ও সরাসরি বৈঠক করেছেন।
পিং পিং পান্ডার বয়স ছয় বছরের বেশি। ২০২০ সালের ১৭ মার্চ, তার জন্ম। চোখের চারপাশে বড় কালো ছোপ রয়েছে এবং গাছে উঠতে সে বেশ পারদর্শী।
অন্যদিকে, ফু শুয়াংয়ের জন্ম ২০২০ সালের ১৮ অক্টোবর। তার মাথার ওপর ছোট্ট একগুচ্ছ লোম রয়েছে এবং কপাল কিছুটা উঁচু। খাবার খুঁজে বের করতেও সে বেশ দক্ষ বলে জানিয়েছে চীনের ন্যাশনাল ফরেস্ট্রি অ্যান্ড গ্রাসল্যান্ড অ্যাডমিনিস্ট্রেশন।
তাদের পরিচর্যাকারীদের ভাষ্য, পিং পিং স্বভাবের দিক থেকে সাহসী ও শান্ত। প্রশিক্ষণের সময় হাতে আপেল দেখলেই খাবারের আশায় সে নরম শব্দ করে। আর ফু শুয়াংয়ের সবচেয়ে পছন্দের খাবার মধু।








































আপনার মতামত লিখুন :