ঢাকা সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩
হরমুজের নাম ‘ট্রাম্প প্রণালি’ রেখে

ইরানকে খোঁচা মার্কিন প্রেসিডেন্টের

ভোরের মালঞ্চ | অনলাইন ডেস্ক সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬, ০১:৩৭ পিএম ইরানকে খোঁচা মার্কিন প্রেসিডেন্টের

ইরানকে খোঁচা দিতে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালির নাম নিজের নামে বদলে ‘ট্রাম্প স্ট্রেইট’ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় ভোরে, নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে একটি মানচিত্র প্রকাশ করে হরমুজ প্রণালির জায়গায় নিজের নাম বসিয়ে দেন তিনি।

 

ইরান এক সপ্তাহের মধ্যে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ খুলে দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়ার পরই ট্রাম্পের এমন মন্তব্য সামনে এলো। তবে এর বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্রকে কয়েকটি শর্ত মানতে হবে বলে জানিয়েছে তেহরান।

 

 

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে চলতি সপ্তাহে মার্কিন আলোচকদের কাছে সাত দিনের একটি পরিকল্পনা তুলে ধরেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। 

 

পরিকল্পনায় যুদ্ধবিরতির পাশাপাশি হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া এবং ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা শুরুর প্রস্তাব রয়েছে।

 

 

 

তবে ইরানের শর্ত হলো, হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার আগে যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর আরোপ করা নৌ অবরোধ প্রত্যাহার করতে হবে, তেল বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করতে হবে এবং লেবাননসহ আঞ্চলিক যুদ্ধবিরতি কার্যকর করতে হবে।

 

ইরানের দাবি, এসব নিষেধাজ্ঞা ও অবরোধ প্রত্যাহার করা হলে দেশটি আরও বেশি পরিমাণে অপরিশোধিত তেল রফতানি করতে পারবে। এতে অর্থনৈতিক সংকটে থাকা তেহরান কিছুটা স্বস্তি পাবে। বর্তমানে ইরানের মুদ্রার দর রেকর্ড পরিমাণে কমেছে এবং মূল্যস্ফীতিও বেড়ে চলেছে।

 

 

শুক্রবার জাতিসংঘে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় আরাঘচি জানান, যুক্তরাষ্ট্র শর্তগুলো মেনে নিলে সাত দিনের কাউন্টডাউন শুরু হবে। এরপর হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া এবং আঞ্চলিক সংঘাত সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার প্রক্রিয়া শুরু হবে।

 

তিনি বলেন, 'যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে চুক্তিতে পৌঁছানো এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে আন্তরিকতা থাকলে, এখন সবকিছু প্রস্তুত রয়েছে।'

 

 

 

এদিকে হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ইরানের সঙ্গে ‘গঠনমূলক আলোচনা’ চলছে। তবে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, ইরান ট্রাম্পের দাবিগুলো পূরণ করবে কি না, তা নিয়ে সন্দিহান মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

 

হরমুজ প্রণালির নাম নিজের নামে দেওয়ার ঘটনা ট্রাম্পের জন্য নতুন নয়। রাজনৈতিক বক্তব্যের অংশ হিসেবে বিভিন্ন ভৌগোলিক স্থানের নাম পরিবর্তন করে নিজের পছন্দের নাম ব্যবহারের নজির আগেও দেখিয়েছেন তিনি।

 

চলতি মাসের শুরুতে, নিউ মেক্সিকোর একটি মানচিত্র ট্রুথ সোশ্যালে প্রকাশ করেছিলেন ট্রাম্প। সেখানে ‘মেক্সিকো’ শব্দটি কেটে দিয়ে ‘আমেরিকা’ লেখা হয়েছিল। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় ওই অঙ্গরাজ্যের নামকে ‘নিউ আমেরিকা’ হিসেবে উল্লেখ করার বিষয়টি ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের শুরুতে নেওয়া একটি নির্বাহী আদেশের কথাও মনে করিয়ে দেয়।

 

২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ‘রেস্টোরিং নেমইস দেট অনার আমেরিকান গ্রেটন্যাস’ শিরোনামে একটি নির্বাহী আদেশে উত্তর আমেরিকার সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ আলাস্কার ডেনালির নাম পরিবর্তন করে আবার ‘মাউন্ট ম্যাককিনলি’ করার সিদ্ধান্ত নেন ট্রাম্প। একই আদেশের মাধ্যমে ‘গালফ অব মেক্সিকো’র নাম বদলে ‘গালফ অব আমেরিকা’ করার উদ্যোগও নেওয়া হয়।

 

তবে ভৌগোলিক নাম পরিবর্তন নিয়ে ট্রাম্পের উদ্যোগ সেখানেই থামেনি। কানাডার সঙ্গে বাণিজ্য উত্তেজনা বাড়ার মধ্যে গত মাসের শেষ দিকে অন্টারিও হ্রদের নাম পরিবর্তন করে ‘লেক আমেরিকা’ করার বিষয়ে আরেকটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেন তিনি।

 

কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম অঙ্গরাজ্য হওয়ার প্রস্তাব ট্রাম্প একাধিকবার তুলেছেন। তবে সম্প্রতি ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, 'তারা মনে করে তারা একটি অঙ্গরাজ্য, কিন্তু তারা অঙ্গরাজ্য নয়। কানাডাকে আমরা কেন ভর্তুকি দেব?'

 

 

Side banner

আর্ন্তজাতিক বিভাগের আরো খবর